পাইরেসির থাবায় থালাপতির সিনেমা, উত্তাল দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার মেগাস্টার থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জানা নয়াগান’ মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে। এই পাইরেসির ঘটনায় প্রযোজনা সংস্থা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সিনেমাটির ক্লিপ থেকে শুরু করে এইচডি প্রিন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন থার্ড পার্টি সাইট ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—মুক্তির আগে কীভাবে এতটা সুরক্ষিত সিনেমা পাইরেসির শিকার হলো? ইতোমধ্যে অভিনেতা কমল হাসান, চিরঞ্জীবীসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন সুপারস্টার রজনীকান্ত ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) রজনীকান্ত লিখেছেন, জানা নয়াগান সিনেমাটি ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের উচিত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। সরকারের উচিত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। এ ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে যেন না ঘটে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিজয়ের সঙ্গে ঘটা এই ঘটনায় নিজের পুরনো তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তার সঙ্গেও এমনটি ঘটেছিল, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল। সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘জানা নয়াগান’ ফাঁস হওয়ার ঘটনাটি আমাকে কষ্ট দিয়েছে। যখন এমন কিছু ঘটে, তখন মনে হয় সব আশা শেষ হয়ে গেছে। এটা শুধু একজন অভিনেতার বিষয় নয়; একটি সিনেমার সঙ্গে পরিচালক, প্রযোজকসহ আরও অনেকের পরিশ্রম ও স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে, যা ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়।
প্রযোজনা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনস গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে জরুরি বিবৃতি দিয়ে দর্শকদের অনুরোধ করেছে—ফাঁস হওয়া কোনো অংশ যেন না দেখা হয় এবং শেয়ার না করা হয়। তারা পাইরেসির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
‘জানা নয়াগান’ পরিচালনা করেছেন এইচ. বিনোত। এটি থালাপতি বিজয়ের অভিনয় জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে আলোচিত। সেন্সর বোর্ডের (সিবিএফসি) সঙ্গে জটিলতা ও আইনি লড়াইয়ের কারণে সিনেমাটির মুক্তি ইতোমধ্যে পিছিয়ে গেছে। এর মধ্যে পাইরেসির ঘটনা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
দক্ষিণী সিনেমা জগতের অনেক তারকাই পাইরেসিকে ‘শিল্পের ওপর আঘাত’ হিসেবে দেখছেন এবং সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এই ঘটনা শুধু একটি সিনেমার ক্ষতি নয়, পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।








