থালাপতি বিজয়ের কাঁধে মান্নার হাত, ভাইরাল ছবির আসল রহস্য কী?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যায়, জনপ্রিয় অভিনেতা মান্নার কাঁধে হাত রেখে আন্তরিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার থালাপতি বিজয়।
বিজ্ঞাপন
ছবিটি প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি সত্যিই দুই তারকার বহু বছর আগের কোনো বাস্তব মুহূর্ত, নাকি আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির তৈরি কোনো কনটেন্ট?
চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক ব্যক্তি মনে করছেন, ছবিটি বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালের সময়কালে মান্না অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ ভারতের চেন্নাইয়ে সম্পন্ন হতো। সে সময় প্রসাদ ল্যাব এবং এভিএম স্টুডিও-তে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
বিজ্ঞাপন
একই সময়ে থালাপতি বিজয়ের একাধিক সিনেমার কাজও ওই স্টুডিওগুলোতে চলছিল বলে জানা যায়। ফলে কাজের সূত্রে দুই তারকার দেখা হওয়া কিংবা একসঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ছবিটির সত্যতা নিয়ে এখনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি মান্নার পরিবারের পক্ষ থেকে। গণমাধ্যমে অভিনেতার স্ত্রী শেলী মান্না জানান, ঘটনাটি অনেক আগের হওয়ায় তার স্পষ্টভাবে মনে নেই। তবে কাজের প্রয়োজনে মান্নার ভারতে যাতায়াত ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য না আসায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সফটওয়্যার এমন বাস্তবধর্মী ছবি তৈরি করতে সক্ষম, যা সাধারণ চোখে আলাদা করা কঠিন। অনেকেই ছবির আলো, রেজোলিউশন ও মুখাবয়বের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণ করে এটিকে প্রযুক্তিনির্ভর সম্পাদনার ফল বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
বিজ্ঞাপন
যদিও ছবিটির উৎস বা সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ হয়নি, তবুও এটি দুই দেশের দর্শকদের মধ্যে আবেগ ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মান্না যেমন ছিলেন সাধারণ মানুষের প্রিয় মুখ, তেমনি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় থালাপতি বিজয়ের জনপ্রিয়তাও আকাশছোঁয়া। ফলে দুই তারকাকে একসঙ্গে একটি ফ্রেমে দেখতে পেয়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
বাস্তব কিংবা প্রযুক্তির তৈরি—যেভাবেই ছবিটি তৈরি হোক না কেন, এটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।








