Logo

মায়ের ত্যাগের স্মৃতিতে আবেগে ভাসলেন তৌসিফ মাহবুব

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১০ মে, ২০২৬, ১৬:২১
মায়ের ত্যাগের স্মৃতিতে আবেগে ভাসলেন তৌসিফ মাহবুব
ছবি: সংগৃহীত

মা দিবসে মাকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি শৈশবের এক ভয়াবহ ও আবেগময় ঘটনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জানান, আজকের তৌসিফ মাহবুব হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মায়ের।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিনেতা লেখেন, ১৯৯৮-৯৯ সালের এক শীতের সন্ধ্যার ঘটনা। তখন তিনি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন। প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর বাবা কিংবা খালু তাকে নিতে আসতেন। কিন্তু একদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও কেউ তাকে নিতে আসেননি। স্কুলের সব শিক্ষার্থী চলে যাওয়ার পর তিনি একা বসে ছিলেন দারোয়ানের কক্ষে।

তৌসিফ মাহবুব লেখেন, ‘১৯৯৮-৯৯ সালের এক শীতের সন্ধ্যা। আমি তখন অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ি। আমার স্কুল ছুটি হতো সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে। প্রতিদিন ৫টা ৪০ থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে আব্বু বা খালু আমাকে নিতে আসতেন। কিন্তু যেদিনের কথা বলছি, সেদিন ৬টা পেরিয়ে গেলেও কেউ আমাকে নিতে আসেনি। স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রী চলে গেছে, আমি একা বসে ছিলাম দারোয়ানের রুমে। তখন ধানমন্ডিতে সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। ধীরে ধীরে ৭টা বেজে গেল, আমার ভেতরে প্রচণ্ড রাগ জমতে শুরু করে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও লেখেন, ‘হঠাৎ রিকশার বেল শুনি। দারোয়ান জানায় আমার মা আমাকে নিতে এসেছে। আমি মাকে দেখে অবাক হয়ে যাই এবং কোনো কিছু না ভেবেই তার ওপর রাগ দেখাতে শুরু করি। তখন রিকশাওয়ালা আমাকে থামিয়ে দিয়ে জানায়, আমার মায়ের পেটে ছিনতাইকারীরা ছুরি মেরে তার কাছে যা ছিল সব নিয়ে গেছে। কিন্তু এমন রক্তাক্ত অবস্থাতেও তিনি হাসপাতালে না গিয়ে কিংবা সাহায্য না চেয়ে সরাসরি আমার স্কুলে চলে আসেন। কারণ তখন অনেক সময় হয়ে গেছে এবং আমি ছোট ছেলে, একা স্কুলে আছি—এই চিন্তায় তিনি অস্থির হয়ে পড়েন।’

এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি লেখেন, ‘আমি থ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এটাই আমার মা। ছোটবেলা থেকে এমন অসংখ্য ত্যাগ, যত্ন আর ভালোবাসার গল্প রয়েছে আমার মাকে ঘিরে। আমার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদানের কারণেই আজকের আমি হয়ে উঠতে পেরেছি। আমি জানি না এসবের প্রতিদান কীভাবে দেব, তবে আমি জানি আমি আমার মাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবীর সব মায়েরাই সন্তানের জন্য একইভাবে ত্যাগ স্বীকার করেন। সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মায়েরা নীরবে অসীম কষ্ট সহ্য করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে তৌসিফ মাহবুব লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের সকল মাকে সুস্থ ও দীর্ঘায়ু দান করুন, যাতে আমরা সন্তানেরা মায়ের স্নেহে জীবন কাটাতে পারি। আল্লাহ আমাদের এমন তৌফিক দিন, যাতে আমরা মায়েদের সুখে রাখতে পারি এবং তাদের সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। যেসব মা ইতোমধ্যে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের জন্য দোয়া রইল। আজকের এই বিশেষ দিনে আমার মা সহ পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সালাম জানাই।’

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD