নরেন্দ্র মোদিকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিলেন শ্রীলেখা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিজেপি। এ কর্মসূচি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
বিজ্ঞাপন
১৭ সেপ্টেম্বর মোদির জন্মদিন উপলক্ষে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজরাটের আহমেদাবাদসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এ উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্বালনের আয়োজন করা হয়।
তবে দেশটির বন্যা পরিস্থিতি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে এ কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন শ্রীলেখা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ বলে উল্লেখ করেন।
শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘মানুষকে বলা হচ্ছে প্রদীপ জ্বালাতে। কী এক অদ্ভুত বৈপরীত্য... আমাদের জীবনকে নরকে পরিণত করার পর এমন আবদার! ঠিক যেন এক বেদনাদায়ক পরিহাস।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এরপর বিজেপি ও সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘একজন স্বৈরাচার—অথবা এক স্বৈরাচারী গোষ্ঠী—সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে; সম্পত্তি ধ্বংস করছে, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে, আর সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর করছে; অথচ একই সঙ্গে তারা দাবি করছে যে তারা স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার!’
সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘আমরা কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? আমরা কেমন এক সমাজ গড়ে তুলছি, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের তকমা দেওয়া হয় দিমাগি নকশাল হিসেবে? এমন এক সময় যখন ভয়ই হয়ে ওঠে শাসনের হাতিয়ার আর ভিন্নমতকে দেখা হয় বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে?’
বিজ্ঞাপন
নিজের পোস্টের শেষ দিকে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ঘোরতর পরিহাস’ ও ‘অন্ধকার যুগ’ বলে মন্তব্য করেন শ্রীলেখা। তাঁর এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।








