হত্যা মামলায় কারাগারে নায়ক, অনিশ্চয়তায় ‘শিকার’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় চিত্রনায়ক ও প্রযোজক মরতুজা পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘শিকার’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করছেন তিনি। নেপালে সিনেমাটির শুটিং শেষে দেশে ফেরার সময় গত ২৮ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে প্রায় তিন সপ্তাহ পর।
বিজ্ঞাপন
মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যা মামলায় পলাশ এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১৪ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষে পলাশকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার ২৫ দিনের বেশি সময় ধরে শুটিং করে পুরো ইউনিট। পরে আকস্মিক বন্যার পর ২৮ আগস্ট দেশে ফেরেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। সেদিনই বিমানবন্দরে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসে ১৭ সেপ্টেম্বরের পর।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
পলাশ কারাগারে থাকায় ‘শিকার’ সিনেমার বাকি কাজও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান জানিয়েছেন, নেপালে সিনেমাটির বেশির ভাগ অংশের শুটিং শেষ হয়েছে। অক্টোবরে বাকি দৃশ্য ও গানের শুটিং করার পরিকল্পনা থাকলেও নায়ক কারাগারে থাকায় চূড়ান্ত শিডিউল করা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
এদিকে পলাশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তার পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হয়েছে।
পলাশের ছোট ভাই হাসিবুল হাসান দাবি করেন, তার ভাইয়ের কোনো রাজনৈতিক পদ নেই এবং পরিবারেরও কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষ্য, ব্যবসা ও অভিনয় থেকে অর্জিত অর্থেই পলাশের সম্পদ গড়ে উঠেছে। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে তার ভাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
পলাশের কথিত কিছু মেসেজের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে হাসিবুল হাসান সেগুলোকে ভুয়া বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, স্ক্রিনশটে যার সঙ্গে কথোপকথন দেখানো হয়েছে, তার কোনো নাম বা ছবি নেই। তাই ওই স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অপু বিশ্বাসের সঙ্গে ‘শিকার’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করার কারণে পলাশকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তার ভাই বলেন, সেটিও একটি কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে তাদের পরিবারকে ঘিরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পলাশের পারিবারিক আর্থিক অবস্থার বিষয়ে হাসিবুল হাসান বলেন, তাদের বাবা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন এবং পরিবার আগে থেকেই সচ্ছল। পলাশ ব্যবসায়িক কাজে ৩০ বারের বেশি বিদেশে যাতায়াত করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
মরতুজা পলাশের পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জমদুয়ারা এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
স্থানীয়ভাবে পলাশের সঙ্গে ঘিওরের ওমর ফারুকের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও আলোচিত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঘিওরের বৈন্যাপ্রসাদ এলাকা থেকে ওমর ফারুককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, ১৪টি ইয়াবা ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছিল। পরে অস্ত্র ও মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তবে ওই মামলায় মরতুজা পলাশের সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
‘শিকার’ সিনেমাটি সীমান্তবর্তী এলাকার গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র। আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় এতে অপু বিশ্বাস ও মরতুজা পলাশের পাশাপাশি অভিনয় করছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গের খরাজ মুখোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্য।
মরতুজা পলাশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাদক, অস্ত্র, অবৈধ সম্পদসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতাও তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।








