দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন বর্ষা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম আফিয়া নুসরাত বর্ষা। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করলেও তিনি খুব একটা সফলতা অর্জন করতে পারেননি। গত বছর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অভিনয় জগত থেকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে নতুন কোনো কাজে আর দেখা যায়নি বর্ষাকে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেশ সক্রিয় থাকেন এবং ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
বিজ্ঞাপন
ব্যক্তিগত জীবনে কখনো কোনো বিতর্কের মুখে পড়েননি এই অভিনেত্রী। ২০১১ সালে ভালোবেসে চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের সঙ্গে সংসার বাঁধেন বর্ষা। সেই থেকে তাদের সুখের দাম্পত্য জীবন প্রায়ই একটি আদর্শ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন বর্ষা। তার সেই গম্ভীর পোস্টে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব নিয়ে নানা কথা উঠে এসেছে।
পোস্টে বর্ষা লিখেছেন, ‘যেকোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে সেই সম্পর্কে ইনভেস্ট করতে হবে। আর এই ইনভেস্টমেন্ট বলতে শুধু টাকা-পয়সা বোঝায় না। অবশ্যই জীবনে চলার জন্য টাকা-পয়সার প্রয়োজন আছে, কিন্তু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবসময় অর্থই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। আমার কাছে সম্পর্কের আসল ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে—আপনার সময়, আপনার ব্যবহার, আপনার যত্ন এবং পারিবারিকভাবে একজন মানুষকে নিজের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নেওয়া।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক আবহের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বর্ষা লেখেন, ‘আপনি যদি সত্যিই জানেন যে, ‘এই মানুষটা আমার জীবনে সারা জীবন থাকবে’ অথবা আপনি তাকে আপনার জীবনে রাখতে চান, তাহলে তাকে আপনার পরিবার ও পারিবারিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। কারণ একটা সময় যখন একজন মানুষের সঙ্গে পরিবারের সামাজিকতা, সম্মান, মায়া, দায়বদ্ধতা এবং আত্মিক একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়, তখন সেই জায়গা থেকে সরে আসার আগে মানুষ অন্তত একবার হলেও চিন্তা করে—আমি চলে গেলে কী হবে? এই সম্পর্কগুলোর কী হবে? আমার কাছে এটাই সম্পর্কের একটা বড় ইনভেস্টমেন্ট।’
সবশেষে অনুরাগী ও পাঠকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বর্ষা লেখেন, তাই তিনি সবসময় বলেন, কেউ যদি কারও সঙ্গে কোনো সম্পর্ক সত্যিই টিকিয়ে রাখতে চান, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ করতে হবে। আর সেই বিনিয়োগ শুধু অর্থ দিয়ে নয়—সময়, ব্যবহার, আন্তরিকতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে পরিবারকে সেই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে। বাবা-মা কিংবা পরিবারের বড়দের সঙ্গে পছন্দের মানুষটিকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে এবং তাকে পারিবারিকভাবে আপন করে নিতে হবে। কারণ কোনো সম্পর্ক যখন শুধু দুজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবারের মানুষদের সঙ্গেও বন্ধন তৈরি করে, তখন সেই সম্পর্কের সঙ্গে মায়া, সম্মান এবং দায়বদ্ধতাও গড়ে ওঠে। আর সেই কারণেই কোনো সম্পর্ককে সত্যিকার অর্থে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়—সেখানে সময়, যত্ন, সম্মান, ব্যবহার এবং পারিবারিক বন্ধনেরও বিনিয়োগ দরকার।
বিজ্ঞাপন








