নাপিতের কাজ ছেড়ে নাচে বাজিমাত, জিতলেন ১৫ লাখ রুপি

প্রতিভা আর অধ্যবসায়ের জোরে জীবন কতটা বদলে যেতে পারে, তারই উদাহরণ ১৯ বছর বয়সী রিতেশ পাল। ভারতের জনপ্রিয় নৃত্য প্রতিযোগিতা ‘ইন্ডিয়াস বেস্ট ড্যান্সার সিজন ৫’-এর শিরোপা জিতে নিয়েছেন রায়পুরের এই তরুণ। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ১৫ লাখ রুপি।
বিজ্ঞাপন
রিতেশের বেড়ে ওঠা ছিল সাধারণ এক পরিবারে। নাচের জগতে পা রাখার আগে জীবিকার প্রয়োজনে নাপিতের কাজ করতেন তিনি। মানুষের চুল-দাড়ি কাটার সেই কাজের পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন নাচের অনুশীলন। সেই পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত তাকে পৌঁছে দিয়েছে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় নৃত্য মঞ্চের শীর্ষে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘোষণা করা হয় এবারের বিজয়ীর নাম। কয়েক মাসের প্রতিযোগিতায় একের পর এক ধাপ পেরিয়ে গ্র্যান্ড ফিনালেতে জায়গা করে নেন রিতেশ। শেষ পর্যন্ত অন্য প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে ট্রফি জিতে নেন তিনি। তার সঙ্গে এই সাফল্যের অংশীদার হয়েছেন কোরিওগ্রাফার প্রতীক উতেকর।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গ্র্যান্ড ফিনালেতে রিতেশ ও প্রতীকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দীপালি বোরকার, প্রথমেশ মানে, আনশিকা ধারা ও গীতাঞ্জলি মারওয়াহা। চূড়ান্ত পর্বের পরিবেশনার পর বিচারক কারিশমা কাপুর, জাভেদ জাফরি, গীতা কাপুর ও টেরেন্স লুইস রিতেশকেই বিজয়ী ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
বিজয়ের পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে রিতেশ বলেন, “নাচ সবসময়ই আমার ভালোবাসা। ‘ইন্ডিয়াস বেস্ট ড্যান্সার সিজন ৫’ জেতা আমার স্বপ্নপূরণের মতো।” এই যাত্রায় বিচারকদের পাশাপাশি কোরিওগ্রাফার প্রতীক উতেকরের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রিতেশ বলেন, তার ওপর বিশ্বাস রেখে নৃত্যযাত্রাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সহপ্রতিযোগীদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখার কথা জানান তিনি।
তবে ট্রফি ও ১৫ লাখ রুপির অর্থমূল্যের চেয়েও রিতেশের কাছে বড় তার মায়ের স্বপ্ন। পুরস্কারের অর্থ দিয়ে কী করবেন—জানাতে গিয়ে এই তরুণ নৃত্যশিল্পী বলেন, মায়ের জন্য একটি বাড়ি বানাতে চান তিনি।
বিজ্ঞাপন
রিতেশের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন মায়ের জন্য নিজের একটি বাড়ি তৈরি করা। ১৫ লাখ রুপি দিয়ে পুরো বাড়ি নির্মাণ সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে আরও অর্থ জমিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। এমনকি স্বপ্নের বাড়ির নামও ঠিক করে ফেলেছেন—‘হরিদর্শন’।
একসময় সেলুনে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন যে তরুণ, নিজের প্রতিভা আর পরিশ্রমে সেই রিতেশই এখন ভারতের ‘সেরা নাচিয়ে’। তার এই পথচলা যেন প্রমাণ করে—সুযোগ পেলে প্রতিভা ঠিকই নিজের পরিচয় তৈরি করে নেয়।








