করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাডা’, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণ আগের তুলনায় কমলেও নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ‘সিকাডা’ নামে পরিচিত এই ধরনটির বৈজ্ঞানিক নাম বিএ.৩.২, যা মূলত করোনা ভাইরাস-এর ওমিক্রন পরিবারের একটি শাখা।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভ্যারিয়েন্টটি এখনো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি না করলেও নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এতে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
‘সিকাডা’ নামটি এসেছে এমন এক ধরনের পোকা থেকে, যা দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পর হঠাৎ বেরিয়ে আসে। একইভাবে, এই ভ্যারিয়েন্টটিও অনেকটা সময় আড়ালে থাকার পর নতুন করে সামনে এসেছে। ২০২২ সালে বিএ.৩ শনাক্ত হলেও পরে তা কমে যায়; ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় কোনো মানুষের শরীরে থেকে পরিবর্তিত হয়ে এটি নতুন রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ২৩টি দেশে এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গবেষকদের মতে, যদিও এতে বেশ কিছু জিনগত পরিবর্তন রয়েছে, তবুও এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুহার বাড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিদ্যমান টিকাও এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে।
অ্যালেক্স গ্রেনিঞ্জার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, বলেন—এই ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ধীরগতির এবং বাস্তব প্রভাব সীমিত হতে পারে। দীর্ঘ সময় সুযোগ পেলেও এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, টুলিও দে অলিভেইরা, দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, মনে করেন—বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন টিকার প্রয়োজনীয়তা নেই। আগের সংক্রমণ ও টিকার কারণে সুরক্ষা বজায় থাকায় গুরুতর ঝুঁকির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিন থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে না ওঠা, আগের সংক্রমণ বা টিকার অভিজ্ঞতা কম থাকা এবং স্কুল বা ডে-কেয়ারে বেশি সময় কাটানোর মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া ভাইরাসটির কিছু বৈশিষ্ট্য কোষে প্রবেশের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, ফলে এটি দ্রুত ছড়াতে পারছে না। কিছু দেশে সংক্রমণ বাড়লেও আবার কমে আসার প্রবণতা দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকলেও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। কারণ, ভাইরাসটি এখনো পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নতুন রূপ নিয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ‘সিকাডা’ বড় হুমকি না হলেও এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে—করোনা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।








