Logo

সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন বন্ধে বেড়েছে হামের ঝুঁকি, দায় গত সরকারের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:৪৫
সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন বন্ধে বেড়েছে হামের ঝুঁকি, দায় গত সরকারের
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়া এবং টিকার সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে আগের সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যা বর্তমানে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত জরুরি নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, অতীতের পরিকল্পনার ঘাটতি ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে হামসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুদ সংকটে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছরে কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে অসংখ্য শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে এবং বর্তমানে তাদের মধ্যেই হামের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে, যা সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে দেশের বাকি অঞ্চলে এ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।

হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। রাজশাহীতে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া স্বল্প ব্যয়ে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য নতুন একটি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অল্প খরচে রোগীদের ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বাস্তবে অনেক হাসপাতালে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। কাগজে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের একটি বড় অংশ প্রতিবছর অব্যবহৃত থেকে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাকালে অব্যবহৃত অর্থ ব্যবহার করে ইউনিসেফের মাধ্যমে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকার ঘাটতি এড়াতে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে, যাতে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD