Logo

জমজ শিশুর এক কন্যার নিথর দেহ কোলে, আরেকজন আইসিইউতে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২২:০০
জমজ শিশুর এক কন্যার নিথর দেহ কোলে, আরেকজন আইসিইউতে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর একটি হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা এক মায়ের অসহায়তা যেন পুরো পরিস্থিতির নির্মম চিত্র তুলে ধরছে। কোলে নিথর হয়ে থাকা ছয় মাস বয়সী কন্যাশিশু, আর অন্য সন্তান জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আইসিইউতে—এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন কনিকা বেগম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় যমজ দুই কন্যার একজন, রিসা। একই রোগে আক্রান্ত তার যমজ বোন রুহি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। দুই সন্তানের এমন অবস্থায় দিশেহারা মা কখন কার দিকে তাকাবেন, সেটিই যেন বুঝে উঠতে পারছেন না।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আইসিইউর সামনে দেখা যায় এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য। শোক যেন এতটাই গভীর যে, পরিবার-স্বজনদের চোখে পানি নেই—নিঃশব্দ যন্ত্রণা তাদের মুখেই স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সপ্তাহে গাজীপুর থেকে জ্বর ও হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুকে ঢাকায় আনা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও আইসিইউ শয্যা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুযোগ পেয়ে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাদের। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রিসাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়, কিন্তু তিনদিন লড়াইয়ের পর তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় রিসার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে রুহির অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকেও নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আইসিইউতে থাকা অধিকাংশ শিশুই ১০ মাসের কম বয়সী এবং তাদের অনেকের অবস্থাই গুরুতর।

একই করিডোরে আরেকটি পরিবারের উৎকণ্ঠাও চোখে পড়ে। ১০ মাস বয়সী জোবায়দা রহমান, যিনি প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন, পরে তার শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে থাকা তার দাদা বারবার আইসিইউতে ঢুকে নাতনিকে এক নজর দেখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু নিয়মের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। অসহায়ভাবে তিনি কেবল আইসিইউর দরজার দিকেই তাকিয়ে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, মিরপুর থেকে তিন মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে আসা আরেক মা আইসিইউতে শয্যা না পেয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে কোথায় যাবেন, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬০ জনের বেশি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত কয়েকদিনে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD