কুলাউড়ায় হামের আতঙ্ক, হাসপাতালে ভর্তি ৮ শিশু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৮ জন শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
রোগীদের অভিভাবকরা জানান, হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে জ্বর ও সর্দি দেখা দিচ্ছে। এরপর শরীরজুড়ে এলার্জির মতো ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা লাল দানা উঠছে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হামের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন চিকিৎসকরা।
এক অভিভাবক বলেন, “সকালে আমার সন্তান স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করে জ্বর আসে, এরপর সর্দি শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরে লাল দানা দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা জানান, এটি হাম।”
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল এই ইউনিটের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু।
তবে স্বজনদের অভিযোগ, বর্তমান ১০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট রোগীর তুলনায় অপ্রতুল। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম ফারহানা জেরিন জানান, সারাদেশেই হামের প্রকোপ বাড়ছে এবং কুলাউড়ায় বর্তমানে ৮ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুরুতর রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে, আর যাদের অবস্থা তুলনামূলক হালকা, তাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন গুরুতর রোগীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং এটি মহামারির রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ৫ বছরের নিচের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, সর্দি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করাই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।







