Logo

হাসপাতালে মোমবাতির আলোয় জরুরি চিকিৎসা, অকেজো জেনারেটর-আইপিএস

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:১২
হাসপাতালে মোমবাতির আলোয় জরুরি চিকিৎসা, অকেজো জেনারেটর-আইপিএস
ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে মোমবাতির আলোয়। এতে রোগী, চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি বিভাগের কক্ষ এবং মেডিকেল অফিসারের কক্ষ অন্ধকার হয়ে আছে। সেখানে মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

সেদিন জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা অন্ধকারে পড়ে যান। জেনারেটর ও আইপিএস কেন সচল নেই—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে এসি চালু থাকতে দেখা যায়। অথচ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় প্রয়োজনীয় ফ্যানের ব্যবস্থাও নেই। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার পরও সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

আইপিএসের ব্যাটারি চুরির পর তদন্ত

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে হাসপাতালের ভেতর থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে তদন্ত শেষে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রধান সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও রাতে জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়া রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি গ্রহণ করেননি।

দ্রুত সমাধানের আশ্বাস ইউএনওর

বিজ্ঞাপন

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতালে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা। কিন্তু সেগুলো কেন সচল নেই, তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাসপাতালের বিদ্যুৎব্যবস্থার বিকল্প ব্যবস্থা দ্রুত সচল করা না গেলে জরুরি চিকিৎসাসেবায় আরও ভোগান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD