Logo

টঙ্গীতে সিজারিয়ান অপারেশনে মা-নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর সদর, গাজীপুর
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১
টঙ্গীতে সিজারিয়ান অপারেশনে মা-নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় জরায়ু কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর এক প্রসূতি ও তাঁর নবজাতক কন্যাশিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড এলাকার নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রসূতির নাম তামান্না (২১)। তিনি গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার বসুগাঁও মীরের বাজার এলাকার মো. সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে এবং মো. রবিউল ইসলাম তুহিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সন্তান প্রসবের জন্য তামান্নাকে নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সার্জন ডা. ফারহানা আক্তারের তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অপারেশনের সময় জরায়ু কেটে যাওয়ার পর তামান্নার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উত্তরা শিন শিন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শিন শিন হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তামান্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, সিজারিয়ান অপারেশনের পর তামান্নার নবজাতক কন্যাশিশুটিও নিউ লাইফ হাসপাতালেই মারা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফারহানা আক্তারের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে হাসপাতালের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত হয়। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা, গাফিলতি কিংবা চিকিৎসাগত ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।

বিজ্ঞাপন

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে তামান্না ও তাঁর নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD