Logo

বিলুপ্তির পথে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে ভারী পোকায় নতুন আশার আলো

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:২৬
বিলুপ্তির পথে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে ভারী পোকায় নতুন আশার আলো
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে ভারী পোকা হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ডের নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাওয়া প্রজাতি ‘ওয়েটাপুঙ্গা’ বিলুপ্তির ঝুঁকি কাটিয়ে এখন পুনরুদ্ধারের পথে। দীর্ঘদিনের এক সফল কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার ওয়েটাপুঙ্গাকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিলুপ্তির মুখে থাকা এই বিরল প্রজাতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এসেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২ অক্টোবর ‘নিউজিল্যান্ড জার্নাল অব জিওলজি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রকল্পটির সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। নিউজিল্যান্ডের সংরক্ষণবিষয়ক বিভাগের সম্মানসূচক গবেষক ও ওই প্রতিবেদনের সহলেখক ড. ক্রিস গ্রিন বলেন, ওয়েটাপুঙ্গার ভবিষ্যৎ এখন বেশ উজ্জ্বল। প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১১ হাজার পোকা প্রজনন করা নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি অর্জন।

ওয়েটাপুঙ্গার পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকার ওজন একটি সাধারণ ইঁদুরের সমান হতে পারে। এদের দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ সেন্টিমিটার বা চার ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। পা ছড়িয়ে দিলে এর বিস্তৃতি প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। নিউজিল্যান্ডে থাকা প্রায় ৭০টি ওয়েটা প্রজাতির মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।

একসময় নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপজুড়ে প্রচুর ওয়েটাপুঙ্গার দেখা মিলত। কিন্তু বাইরে থেকে আনা শিকারি প্রাণীর বিস্তার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে ধীরে ধীরে এদের সংখ্যা কমতে থাকে। ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে প্রজাতিটিকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিউজিল্যান্ডের মূল ভূখণ্ড থেকে ওয়েটাপুঙ্গা বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে অকল্যান্ডের হাউরাকি উপসাগর এবং নর্থল্যান্ড উপকূলের শিকারিমুক্ত কয়েকটি দ্বীপে অল্পসংখ্যক ওয়েটাপুঙ্গাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল। সেই সীমিত সংখ্যক পোকাকে ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে শুরু হয় প্রজাতিটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ১৫ বছরে সেই উদ্যোগে বড় পরিবর্তন এসেছে। অকল্যান্ডের ‘বাটারফ্লাই ক্রিক’ বন্যপ্রাণী কেন্দ্র ও অকল্যান্ড চিড়িয়াখানায় বিশেষ প্রজনন কৌশল ব্যবহার করে হাজার হাজার ওয়েটাপুঙ্গার জন্ম দেওয়া হয়েছে। পরে অকল্যান্ডের উত্তরে থাকা বিভিন্ন শিকারিমুক্ত দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের সংরক্ষিত বনে এসব পোকাকে ধাপে ধাপে অবমুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাটারফ্লাই ক্রিক ও অকল্যান্ড চিড়িয়াখানা যৌথভাবে বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তুলে বিপুলসংখ্যক ওয়েটাপুঙ্গার লালন-পালন নিশ্চিত করে। বাচ্চা ওয়েটাপুঙ্গা বা নিম্ফদের খাবার হিসেবে দেওয়া হতো তাজা পাতা, মাছের ফ্লেক প্রোটিন এবং ঝরা পাতার মিশ্রণ।

ড. গ্রিন জানান, একেবারে ছোট অবস্থায় ওয়েটাপুঙ্গার ছানাদের বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রোটিনসমৃদ্ধ এই খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে পোকাগুলো যখন নিজেদের টিকিয়ে রাখার মতো যথেষ্ট বড় হয়ে উঠত, তখন সেগুলোকে নতুন প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হতো।

এ পর্যন্ত মোট ৪৫টি ধাপে ওয়েটাপুঙ্গাকে বন্য পরিবেশে স্থানান্তর করা হয়েছে। যেকোনো প্রাণী পুনরুদ্ধার কর্মসূচির ক্ষেত্রে এত বড় সংখ্যায় ধাপে ধাপে অবমুক্ত করার ঘটনাকে একটি রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শিকারিমুক্ত দ্বীপগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে দেখা গেছে, অন্তত দুটি দ্বীপে ওয়েটাপুঙ্গারা নিজেদের মতো করে টিকে থেকে প্রজনন শুরু করেছে। সেখানে ইতোমধ্যে এদের চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের জন্মও হয়েছে।

এই সাফল্যের ভিত্তিতে ওয়েটাপুঙ্গার সংরক্ষণগত অবস্থানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রজাতিটিকে ‘জাতীয়ভাবে বিপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন সেটিকে ‘জাতীয়ভাবে পুনরুদ্ধারের পথে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সীমাবদ্ধ এমন অনেক প্রজাতি রয়েছে। তবে বহিরাগত ক্ষতিকর ও শিকারি প্রাণীর কারণে দেশটির বহু প্রাণীই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। ওয়েটাপুঙ্গার পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি প্রজাতিকে রক্ষার সাফল্য নয়, বরং দেশটির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

ড. গ্রিন বলেন, অমেরুদণ্ডী প্রাণী সংরক্ষণে নিউজিল্যান্ড বিশ্বে নেতৃত্বের অবস্থানে রয়েছে। এত বড় পরিসরে কোনো অমেরুদণ্ডী প্রাণীর সফল প্রজনন ও প্রকৃতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠার আর কোনো উদাহরণ তার জানা নেই। এই প্রকল্প থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণে উৎসাহিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD