শ্রীলঙ্কায় বন্যা–ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ শতাধিক

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যা–ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১২৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনও ১৩০ জনের কোন খোঁজ নেই, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ এক সপ্তাহের বৃষ্টিপাতে বহু ঘরবাড়ি ধসে গেছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানান, বিপর্যস্ত এলাকা থেকে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলমান।
শনিবার পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার নেয়। রাজধানী কলম্বো দিয়ে বয়ে যাওয়া কেলানি নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে গেলে নদীপারের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত মানুষ রাতারাতি স্কুল ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়।
বিজ্ঞাপন
বৃষ্টি কমলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে এখনও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এরই মধ্যে বহু রেললাইন প্লাবিত হয়েছে এবং পাহাড়ি পথে পাথরধস নামায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বদুল্লায় ভূমিধসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রবল দুর্যোগে শুক্রবারই শ্রীলঙ্কার সরকারি অফিস ও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গত কয়েক মাসে দেশটিতে আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছরের জুনে ২৬ জন এবং গত ডিসেম্বরে বন্যা–ভূমিধসে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছিল।
২০০৩ সালের জুনে ঘটে যাওয়া বন্যা ছিল শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে ২৫৪ জন মারা যায়।








