Logo

ব্রুকলিন কারাগারে মাদুরো: কেন এত কুখ্যাত এই মার্কিন বন্দিশালা?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫:১৯
ব্রুকলিন কারাগারে মাদুরো: কেন এত কুখ্যাত এই মার্কিন বন্দিশালা?
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। মাদুরোকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি)-তে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নোংরা পরিবেশ, সহিংসতা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ নানা কারণে কুখ্যাত এই কারাগার। ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত এই কারাগারে রাখা হয়েছিল গায়ক আর. কেলি, ফার্মা ব্রো, মার্টিন শ্রেকলি, সমাজকর্মী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিস্ময়বালক স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড এবং সংগীত জগতের তারকা শন ডিডি কম্বসকে। সন্দেহভাজন সিনালোয়া কার্টেল নেতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়াকেও হত্যা ও মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন সময়ে সেখানে আটক রাখা হয়েছিল।

সংগীত তারকা কম্বসের আইনজীবী ২০২৪ সালের শেষের দিকে আদালতে বলেন, এই কারাগারের পরিবেশ একজন বন্দির জন্য অত্যন্ত কঠিন জায়গা, সেখানে রাখা হলে তার মক্কেলের পক্ষে বিচারের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন। 

বিজ্ঞাপন

এই কারাগারে সহিংসতা নিয়েও আতঙ্কে থাকেন বন্দিরা। ২০২৪ সালের জুনে এক বন্দি ছুরিকাঘাতে নিহত হন এবং এর এক মাস পরেই আরেকজন বন্দি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মৃত্যুবরণ করেন।

২০১৯ সালে এক মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এক সপ্তাহ ধরে বন্দিরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই বিষয়ে বিচার বিভাগ তদন্ত শুরু করলে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৬০০ বন্দির জন্য ১ কোটি ডলার দিতে রাজি হয় কারা কর্তৃপক্ষ। বন্দিদের পক্ষে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, তাদের কয়েক দিন ধরে সেলে আটকে রেখে নষ্ট টয়লেটসহ অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন ম্যানহাটনের কারাগারে আত্মহত্যা করার পর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এমডিসি নিউ ইয়র্ক সিটির একমাত্র ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার।

এদিকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার স্বার্থ বোঝে না, এমন কারও হাতে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারি না। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি ভেনেজুয়েলার ভেতরের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং দক্ষিণ আমেরিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সেইসঙ্গে ট্রাম্প এও জানান, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার মতো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক নীতি ও আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD