যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা: কাতার

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আশপাশের পুরো অঞ্চলই মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কাতারের রাজধানী দোহায় এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে কোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, কাতার সব সময়ই সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয়।
এর আগে গত বছরের জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই সময় ইরানের পরমাণু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। কাতারের ভূখণ্ডে এটি ছিল কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রথম সামরিক হামলা।
বিজ্ঞাপন
সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কাতার। ওই যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।
এদিকে ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্দোলনের মূল কারণ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া।
দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে দেশের স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের জনগণের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ মঙ্গলবার তিনি ইরানি জনতাকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পৌঁছাবে।
অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে ইরানের সেনাবাহিনী।








