যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিলেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছে—এমন অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা শুনতে শুনতে ভেনেজুয়েলা ক্লান্ত।
বিজ্ঞাপন
পুয়ের্তো লা ক্রুজ শহরে আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভেনেজুয়েলাবাসীর হাতেই থাকা উচিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বলেন, “আমরা ওয়াশিংটনের আদেশ-নির্দেশ শুনতে শুনতে ক্লান্ত; যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য আমরা নিজেরাই মেটাতে চাই।”
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
বিজ্ঞাপন
গত ৩ জানুয়ারি রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ভেনেজুয়েলা সরকার অভিযোগ করেছে। বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বলেও দাবি করেন।
জনসভায় দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না, তবে দেশটি ভয়ও পায় না। তিনি বলেন, “আমরা সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।”
সূত্র: সিএনএন








