আগ্রাসনের জবাবে প্রস্তুত ইরান, কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যে কোনো সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
পোস্টে আরাঘচি জানান, দেশের ভূমি, আকাশসীমা ও জলসীমার বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের আক্রমণের জবাবে দ্রুত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে ইরানের বাহিনী প্রস্তুত। তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তার জবাবও হবে তাৎক্ষণিক ও কঠোর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের কয়েক দিনব্যাপী সামরিক হামলা এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় তেহরান গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তার ভাষায়, ১২ দিনের সংঘাত থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ইরানকে আরও দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরাঘচির এই বক্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরানের কঠোর অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপও বেড়েছে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, একটি বৃহৎ সামরিক নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রয়োজনে এই বহর দ্রুত ও শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যেন দ্রুত আলোচনায় বসে একটি “ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ” চুক্তিতে পৌঁছায়। তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা চলবে না এবং সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে ট্রাম্প পূর্বেও দাবি করেছিলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে ভবিষ্যৎ হামলা আরও ভয়াবহ হতে পারে।








