ইরানের ৩ স্থানে বিস্ফোরণ, ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ছায়া যুদ্ধ নতুন করে সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরান-এর অন্তত তিনটি কৌশলগত স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলকানি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আরও পড়ুন: ইরানে আবারও হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল
বিজ্ঞাপন
হামলার পরপরই ইসরায়েল সরাসরি দায় স্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আগাম এই হামলা ইসরায়েল পরিচালনা করেছে। তার দাবি, ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর বিদ্যমান নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করতে এবং নিকটবর্তী বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, পরিস্থিতি বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তেল আবিব-সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Iron Dome প্রস্তুত রাখা হয়েছে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করার জন্য।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ইরান সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছাড়াও ড্রোন কিংবা মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানতে পারে। ফলে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।








