ইরানি নৌবাহিনীর গুলির পর স্থবির হরমুজ, জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

ইরানি নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি থমকে গেছে। ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত শুক্রবার ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন করে তেহরান। ফলে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জাহাজ চলাচল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েড লিস্ট জানিয়েছে, যেসব জাহাজ চলা শুরু করেছিল সেগুলো আবারও আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে। জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছে আটকে আছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল ভারতের দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী। এরপরই জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দেশটির নৌবাহিনী এক রেডিও বার্তায় জাহাজগুলোকে সতর্কতা দেয়, হরমুজ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের সশস্ত্র বাহিনী। যদি কোনো জাহাজ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে
বিজ্ঞাপন
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তোলা না পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, “হরমুজের দিকে জাহাজ নিয়ে আসলে এটিকে শত্রুদের সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করবে সেগুলোতে হামলা চালানো হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে এই ঘোষণা দিয়ে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, “যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে মার্কিন শত্রুরা ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়নি। তাই আজ (শনিবার) সন্ধ্যা থেকে এই অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।”
বিজ্ঞাপন
এছাড়া পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নোঙর করা অবস্থান থেকে কোনো জাহাজ যেন না সরে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা








