ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর থেকে বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য নতুন সংলাপ ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই অবরোধ ইরানের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২২ এপ্রিল। এর আগে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য বৈঠককে সামনে রেখে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটন ছাড়েননি। অন্যদিকে ইরানও বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বিজ্ঞাপন
অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একাধিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। এছাড়া অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তেহরান একে ‘জলদস্যুতা’ এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য নৌপথটি খুলে দেওয়া হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা আবার বন্ধ করা হয়।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করবে না।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশ নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে ইরান এখনো এ বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ইসলামাবাদে বৈঠককে ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। নির্ধারিত ভেন্যুতে অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান আশা করছে, তারা উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসাতে সক্ষম হবে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি








