যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তিতে যেসব বাধা

প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হলেও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তেহরানের অনাগ্রহ এবং ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের কারণে পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ এবং যুদ্ধক্ষতিপূরণসহ একাধিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। ফলে সম্ভাব্য চুক্তির পথ এখনো অনেকটাই অন্ধকারে।
বিজ্ঞাপন
চুক্তির পথে প্রধান পাঁচটি বড় বাধা হলো—
পারমাণবিক কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করুক। তবে ইরানের অবস্থান, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা হলে তা নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য হতে হবে।
ইউরেনিয়াম মজুত: প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালি: ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বহাল থাকবে।
জব্দ সম্পদ: ইরান দাবি করেছে, স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধক্ষতিপূরণ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে তেহরান।
এই সব ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা








