Logo

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির শেষ পর্যায়ে ছিল, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ মার্চ, ২০২৬, ১৩:০২
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির শেষ পর্যায়ে ছিল, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অংশ হিসেবে ইরানে নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। সোমবার (২ মার্চ) এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যান লক্ষ্যভেদে আকাশ থেকে ধ্বংস করা হচ্ছে। মার্কিন যুদ্ধ সচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানে ‘সার্জিক্যাল ও ওভারহোয়েলমিং’ হামলা চালানো হচ্ছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করছিল। তার বক্তব্যে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলার আগে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তাদের হাতে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ৯০ শতাংশে রূপান্তর করতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস সময় লাগত।

বিজ্ঞাপন

ওয়াল্টজ আরও জানিয়েছেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি করেছে এবং দূরপাল্লার আইসিবিএম তৈরির কাজ করছিল। তবে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

এদিকে সমুদ্র বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড এআই’ জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে ইরান ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর পাল্টা হামলা শুরু করেছে। সংঘাতের দ্বিতীয় দিনে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘স্কাইলাইট’ নামের একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে। যদিও ওই ট্যাঙ্কারে ইরানি নাগরিক ও সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তেহরান ‘এরিয়া ডিনায়েল’ কৌশলের অংশ হিসেবে হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা প্রদর্শনের লক্ষ্য ছিল। এছাড়া কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া এই অভিযান সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। সিনেট প্রেসিডেন্টকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ বা নিখুঁত হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, সমুদ্রসীমায় মাইন স্থাপনের সক্ষমতা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’ ট্রাম্প জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চায়, তবে প্রয়োজন হলে অভিযান দীর্ঘায়িত হতে পারে। এ পর্যন্ত কোনো মার্কিন স্থলসেনা ব্যবহার করা হয়নি এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD