ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব নাকচ, ইরানে হামলা অব্যাহত থাকাবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে নাকচ হয়েছে। এতে কার্যত ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে প্রশাসনের অবস্থানই বহাল থাকল বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) এ বিষয়ে ভোটাভুটি হয় মার্কিন সিনেটে। এতে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ৫২ জন সিনেটর ভোট দেন, আর পক্ষে ভোট দেন ৪৭ জন। ফলে প্রেসিডেন্টের সামরিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার উদ্যোগটি পাস হয়নি।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) একই ধরনের আরেকটি প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে। তবে সেটিও অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সিনেটে দিনভর আলোচনায় আইনপ্রণেতারা বিতর্ক করেন—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত কি না। প্রস্তাবের সমর্থকদের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক অভিযান শুরু করে প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিক হুমকির মুখে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালাতে পারেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
বিতর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিনেটর টিম কেইন বলেন, গোপন বৈঠকেও প্রশাসন এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি, যা থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক হামলার মুখে ছিল।
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। খামেনি হত্যার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
এদিকে ইরানের সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাল্টা হামলায় লেবাননের রাজধানী বৈরুত–এ ওই গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
বিজ্ঞাপন
একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ইরানে হামলায় এখন পর্যন্ত ১১০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননেও নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা








