Logo

ইরান যুদ্ধ এত দীর্ঘ হবে ভাবেনি যুক্তরাষ্ট্র

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ মার্চ, ২০২৬, ১৭:১৮
ইরান যুদ্ধ এত দীর্ঘ হবে ভাবেনি যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না; বরং হামলা ও পাল্টা হামলার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সংঘাত এত দীর্ঘায়িত হবে এবং ইরান এত শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে—এটি শুরুতে ওয়াশিংটন কল্পনাও করেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ এখন ১৪তম দিনে গড়ালেও শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। তার মতে, ইরান ও তার মিত্রদের প্রতিক্রিয়া যে এত ব্যাপক হতে পারে, তা ওয়াশিংটনের কল্পনার বাইরে ছিল।

বিজ্ঞাপন

ম্যাগনিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক কৌশলে বড় প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক রকেট ও ড্রোন হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

ম্যাগনিয়ার সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের এই পর্যায়ে যে পক্ষ আগে দুর্বলতা দেখাবে, শেষ পর্যন্ত তাকেই পরাজিত হিসেবে ধরা হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাকে কঠোর অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে।

অন্যদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি এই সংঘাতকে ‘পছন্দের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মূলত ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ইজাদি বলেন, ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি; এটি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উদ্বেগেও কিছুটা স্ববিরোধিতা রয়েছে। কারণ কয়েক মাস আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে যেতে আগ্রহী ছিল না; বরং তেহরানের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD