Logo

জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলো চীন ও রাশিয়া

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৫৯
জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলো চীন ও রাশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

টানা ১৪ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সংঘাত ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বৈঠকে ইরানের পক্ষে রাশিয়া ও চীন শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করে। তবে রাশিয়া ও চীন এই প্রস্তাবের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বৈঠকের সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলে।

নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়। রাশিয়া ও চীন আলোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ভোটাভুটিতে তা পাস হয়। ১১–২ ভোটে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব পাস হয়, এবং রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র নেই এমন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র যেখানে ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ হয়েছে এবং আইএইএ-কে পরিদর্শনের পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে না। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সন্ত্রাসে সমর্থনের কারণে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার জন্য নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল জরুরি।”

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এই অভিযোগকে ‘অযথা আতঙ্ক’ হিসেবে উড়িয়ে দেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর অজুহাত তৈরি করছে। চীনের প্রতিনিধি ফু ছং যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে দায়ী করে বলেন, “একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা এবং অন্যদিকে প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগ করা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।”

বিজ্ঞাপন

ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে জানান, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ যথাযথভাবে মোকাবিলা না করলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ ছিল, এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আমরা মেনে নেব না।”

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান কারণ। এই মাসের শুরুতে তিনি দাবি করেন, গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালালে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারত। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সূত্র এই দাবির সমর্থন দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। প্রতিশোধে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ১৪ দিন ধরে চলা এই হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD