ইরান ও লেবাননে হামলা করছে ইসরায়েল, ১০ দিনে নিহত ৬৮৭

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দিন দিন আরও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনও চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না; হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা ক্রমশ বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে শুধু ইরান নয়, লেবাননেও নতুনভাবে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নতুন দফার হামলায় লেবাননে অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু, ৬২ জন নারী এবং ১৮ জন প্যারামেডিক রয়েছেন। এছাড়া আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭৭৪ জনে, যাদের মধ্যে ৩০৪ জন শিশু, ৩২৮ জন নারী এবং ৪৫ জন প্যারামেডিক রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে নিহত হন ইরানের সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এরপর ২ মার্চ লেবাননের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের লক্ষ্য করে হামলা শুরু করলে, ইসরায়েলও লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় এবং ৩ মার্চ থেকে স্থল অভিযান শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) লেবানন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ না করে, তবে আইডিএফ লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করবে এবং স্থায়ী সামরিক অঞ্চল বা ‘সিকিউরিটি জোন’ গড়ে তুলবে।
তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত রকেট ও ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরের জনপদগুলো বাসযোগ্য নয়। লেবাননে স্থল অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কিছু সামরিক কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার আগে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন।








