Logo

ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য ধ্বংসের হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৯
ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য ধ্বংসের হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিজ্ঞাপন

পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলার একটি পরিচালনা করেছে। এতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ট্রাম্প জানান, ওই হামলা শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। খার্গ দ্বীপে অবস্থিত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে। তিনি বলেন, আপাতত দ্বীপটির তেল স্থাপনা ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রায় পাঁচ বর্গমাইল আয়তনের খার্গ দ্বীপকে দেশটির জ্বালানি রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস এখান থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। কৌশলগত দিক থেকেও দ্বীপটির গুরুত্ব অনেক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে এই প্রণালী দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। গত দুই সপ্তাহে ওই নৌপথে এক ডজনের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

এই অবরোধের কারণে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের তেল রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে ইরান এখনো তার জ্বালানি তেলের চালান বিদেশে পাঠাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া তেল ও তরল গ্যাসের একটি বড় অংশ আসে ইরান থেকে। বিশ্ববাজারে মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ এবং তরল গ্যাসের প্রায় ১২ শতাংশ সরবরাহ করে দেশটি। তাই খার্গ দ্বীপের জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হলে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের পক্ষে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD