Logo

যেভাবে পাওয়া গেল যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ মে, ২০২৬, ১৯:৪৭
যেভাবে পাওয়া গেল যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি যে বৃষ্টিরই, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি শুক্রবার (১ মে) এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানান যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর রহস্যজনক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিয়েছে। মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় কায়াক আরোহীর কাকতালীয় আবিষ্কারে উদ্ধার হয়েছে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ, যা পুরো ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। 

হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চাদ ক্রোনিস্টার শুক্রবার (১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলীয় এলাকায় একটি কালো প্লাস্টিক ব্যাগে পাওয়া মানবদেহের অংশ আসলে ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রবিবার উত্তর সেন্ট পিটার্সবার্গ উপকূলে মাছ ধরছিলেন এক ব্যক্তি। তার ফিশিং লাইন হঠাৎ একটি কালো ব্যাগে আটকে গেলে তিনি সেটি ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে পৌঁছে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করেন।

শেরিফের ভাষায়, ব্যাগটি খোলা ছিল, তাতে লবণাক্ত পানি ঢুকেছিল। ভেতরে কী আছে বোঝা যাচ্ছিল না, তবে দেখতে মানবদেহের মতো লাগছিল। পরে নিশ্চিত করা হয়-এটি নিখোঁজ শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ।

মরদেহটি তীব্র পচনশীল অবস্থায় থাকায় ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়েছে। বৃষ্টির পরনের পোশাকও তার নিখোঁজ হওয়ার সময়কার পোশাকের সঙ্গে মিলে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, একই ঘটনায় বৃষ্টির বন্ধু ও সহপাঠী জামিল লিমনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। তিনিও ২৭ বছর বয়সী এবং বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গিয়েছিলেন।

এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদেরই রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ, যার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৬ এপ্রিল বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায়। ১৭ এপ্রিল তাকে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়। পরদিন নিখোঁজ হন লিমন। 

শেরিফ চাদ ক্রোনিস্টার আরও বলেন, দুই শিক্ষার্থীই ছিলেন দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী। হঠাৎ করে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধুরা বুঝতে পারেন কোনো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। যা শুরু হয়েছিল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায়, তা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: টাম্পা বে নিউজ

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD