হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী আবার নিরাপদ ও সচল করতে চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনার জন্য বেইজিং সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আসন্ন সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তিনি আশা করছেন, বৈঠকের আগেই চীন হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেবে। ট্রাম্পের মতে, এই প্রণালী দিয়ে চীন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মার্চ মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি ওই বৈঠকের আগেই পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে চান। তার ভাষায়, এ ধরনের বিষয়ে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করা অনেক দীর্ঘ সময়।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে তার চীন সফরের সময়সূচি পরিবর্তিতও হতে পারে। যদিও সম্ভাব্য বিলম্বের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার আহ্বান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নিজেদের তেলবাহী জাহাজ পারাপারে চীনের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট করার প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এর আগে ভারতও জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে তাদের দুটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল সম্ভব হচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালীর সুবিধা ভোগ করে, তাদেরই এখন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবার চালু করতে উদ্যোগী হওয়া উচিত। কারণ ইউরোপ ও চীন পারস্য উপসাগর থেকে আসা জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিজ্ঞাপন
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়ে যদি অন্যান্য দেশ এগিয়ে না আসে, তাহলে তা ন্যাটো জোটের ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে না। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং বহু ক্ষেত্রে তাদের পাশে থেকেছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা ছিল না। ভৌগোলিকভাবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। তবুও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এখন সময় এসেছে অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায় কি না তা দেখার। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মিত্রদের সহায়তা করে আসছে, কিন্তু সব সময় সেই সহায়তার প্রতিদান পাওয়া যায় না। তিনি এমনও মন্তব্য করেন যে, অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত নয় তার মিত্ররা সত্যিই তাদের পাশে আছে কি না।
বিজ্ঞাপন
এর একদিন আগে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে আহ্বান জানান, তারা যেন যৌথ উদ্যোগে হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে পদক্ষেপ নেয়।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত তেল পরিবহন রুটগুলোর একটি। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একাধিকবার সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা তেলবাহী জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে দেবে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।








