মার্কিন যুদ্ধবিমানকে ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি শ্রীলঙ্কা। চলতি মার্চের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে যুদ্ধবিমান অবতরণ ও অবস্থানের অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, দেশের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা এবং ভূখণ্ড যেন কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র জিবুতির একটি ঘাঁটি থেকে আটটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দুটি যুদ্ধবিমান ৪ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাখার অনুমতি চেয়েছিল। তবে ওই অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, একই সময়ে ইরানও শ্রীলঙ্কার কাছে অনুরূপ একটি অনুরোধ করেছিল। তারা ভারতের একটি নৌ-মহড়া শেষে ফেরার পথে তিনটি যুদ্ধজাহাজকে কলম্বো বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চেয়েছিল। বিষয়টি ৯ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিবেচনাধীন ছিল।
প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, “যদি আমরা ইরানকে অনুমতি দিতাম, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকেও অনুমতি দিতে হতো। তবে আমরা কোনো পক্ষকেই অনুমতি দিইনি, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছি।”
তার বক্তব্যের সময় শ্রীলঙ্কার ২২৫ সদস্যের সংসদে করতালিতে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের নিরপেক্ষ নীতিতে অটল রয়েছি।”
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-তে টর্পেডো হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যাতে ৮৪ জন নাবিক নিহত হন। শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে।
পরদিন ‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের আরেকটি ইরানি জাহাজের ২১৯ জন ক্রুকে নিরাপত্তার কারণে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তারা বর্তমানে কলম্বোতে অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
শ্রীলঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের সঙ্গেই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রধান রপ্তানি বাজার, আর ইরান শ্রীলঙ্কান চায়ের অন্যতম বড় ক্রেতা।
সূত্র: এএফপি








