সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল, কূটনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট

ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত নীতিতে মতবিরোধের জেরে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কে নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অভিযোগ তুলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিন সংঘাত চলার পর ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ সময় ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করলেও সৌদি আরব এতে আপত্তি জানায়। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সৌদি নেতৃত্বের আপত্তির মুখে অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেটি স্থগিত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযানের শুরুতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। এ সিদ্ধান্ত ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে টানা কয়েক দফা ফোনালাপ হয়। পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি রিয়াদ।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখলেও অন্যদিকে নিজেদের স্বার্থে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বের কাছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারত বলে মনে করছে সৌদি আরব। ফলে ইরানকে ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা কৌশলে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে কয়েকটি পশ্চিমা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য একটি অ-আগ্রাসন চুক্তি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে সৌদি আরব। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে পুনর্মিলনী সম্মেলনের আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ও সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে এখনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের আলোচনা অব্যাহত আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের মধ্যে নতুন ধরনের অবিশ্বাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস








