যুদ্ধের ছায়ায় নিভে গেছে ঈদের আনন্দ, মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এবার ঈদুল ফিতর এসেছে যুদ্ধ, ধ্বংস আর অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে। উৎসবের আনন্দ যেখানে থাকার কথা, সেখানে এখন লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইরানজুড়ে চলছে টিকে থাকার লড়াই। শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া ঈদ অনেকের কাছেই পরিণত হয়েছে বেঁচে থাকার সংগ্রামে।
বিজ্ঞাপন
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের অভিজাত এলাকাগুলো এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়ে ভরা। দক্ষিণ লেবাননের দাহিয়ে শহর থেকে বাস্তুচ্যুত সিরীয় শরণার্থী আলা জানান, ইসরায়েলের হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তার। ঈদ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, বরং একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে জানান তিনি।
দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
গাজায় চলমান সংকট ও বাজারে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান। গাজা সিটির বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী খালেদ দীব বলেন, একসময় তিনি সন্তানদের ঈদে বড় অঙ্কের উপহার দিতেন, কিন্তু এখন ফল কেনাও তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিন সন্তানের জননী শিরিন শরীম জানান, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ তাদের জীবন থেকে আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। অনেকেই এখন প্লাস্টিক ও কাঠের অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন, যেখানে ঈদের আনন্দের বদলে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কাই বড় হয়ে উঠেছে।
ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে জনজীবনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে কেনাকাটাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অর্থনৈতিক সংকট, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বছর পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’ এবং ঈদ একই সময়ে পড়ায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়েছে। অনেকেই ধর্মীয় উৎসবের চেয়ে নওরোজ উদযাপনেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
সব সংকটের মাঝেও কিছু মানুষ আশার আলো দেখছেন। বৈরুতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক করিম সাফিয়েদিন বলেন, বাস্তুচ্যুত হলেও পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ উদযাপনের চেষ্টা করবেন তারা। তার মতে, এই পারিবারিক ও সামাজিক সংহতিই কঠিন সময় পার করার শক্তি জোগায়।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আল জাজিরা








