সুদানের হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা, শিশুসহ নিহত ৬৪

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের দারফুর অঞ্চলে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন শিশু রয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে পূর্ব দারফুরের রাজধানী আল দাইনের একটি টিচিং হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের পাশাপাশি দুইজন নার্স এবং একজন চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৮৯ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম অনিশ্চয়তা ও সংকটে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, প্রায় তিন বছর ধরে চলা সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটির নথি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২১৩টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। এতে দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত স্থাপনায় এমন হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিন্দনীয় ও অমানবিক বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, সুদানের সংঘাত এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হাসপাতালেও আঘাত হানছে।
বিজ্ঞাপন
তবে আল দাইন টিচিং হাসপাতালের এই হামলার জন্য এখনো কোনো পক্ষ সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ একে অপরকে দায়ী করলেও নিরপেক্ষ তদন্তের অভাবে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে আল দাইন শহরে কার্যকর কোনো হাসপাতাল না থাকায় আহতদের চিকিৎসার জন্য অন্য এলাকায় স্থানান্তর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।








