ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের সামনে চারটি কঠিন পথ, নেই সহজ সমাধান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলগত অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একদিন যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দেওয়ার পরের দিনই ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আগেভাগে মূল্যায়ন করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে চারটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে—আলোচনা, যুদ্ধ থেকে সরে আসা, বর্তমান অবস্থান বজায় রাখা, অথবা সংঘাত আরও তীব্র করা। তবে প্রতিটি বিকল্পই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কূটনৈতিক সমাধানের আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবে বাস্তবতা অনুকূল নয়। ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে এবং আলোচনায় আস্থার ঘাটতি তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি ৯ মার্চ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে প্রকাশ্যে না দেখা যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান বা কাতারের ভূমিকা নিয়েও আঞ্চলিক মতভেদ রয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে থাকায় আপসের সুযোগ খুবই সীমিত।
ট্রাম্পের জন্য তুলনামূলক সহজ পথ হতে পারে সামরিক সফলতা দাবি করে যুদ্ধ থেকে সরে আসা। এতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক হতে পারে।
তবে এর বড় ঝুঁকি হলো—ইরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ভবিষ্যতে পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিনির্ধারকের মতে, আরও কয়েক সপ্তাহ বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা সম্ভব। তাদের ধারণা, এতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও বাড়তে পারে।
তবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। সীমিত আক্রমণেও ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, ফলে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি থেকেই যাবে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা চাপে পড়ছে।
বিজ্ঞাপন
চতুর্থ ও সবচেয়ে বিপজ্জনক বিকল্প হলো সংঘাত আরও বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র বা তেলসম্পদ লক্ষ্য করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। এর পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি শোধনাগার বা গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করবে।
এরই মধ্যে কাতারের একটি এলএনজি প্ল্যান্টে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু করলেও তা শেষ করার সহজ পথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। বিজয় ঘোষণা করলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার যুদ্ধ বিস্তৃত হলে মিত্র দেশগুলোও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে ওয়াশিংটন এখন এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই উচ্চমূল্যের ও বিপজ্জনক।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট








