Logo

বিশ্ববাজারে কমলেও ভারতে আবার বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ মে, ২০২৬, ১৪:১৪
বিশ্ববাজারে কমলেও ভারতে আবার বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করলেও বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে ভারতে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যে গত ১১ দিনের ব্যবধানে চতুর্থবারের মতো দেশটিতে বাড়ানো হয়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সোমবার (২৫ মে) থেকে নতুন দরে লিটারপ্রতি পেট্রল ও ডিজেলের মূল্য দুই রুপির বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ১০২ রুপি ছাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫০ ডলারে। চলতি মাসে এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামলো।

ভারতে সোমবার থেকে লিটারপ্রতি পেট্রলের দাম বেড়েছে ২ রুপি ৬১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ রুপি ৭১ পয়সা। এর আগে গত শনিবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বিভিন্ন শহরে পেট্রলের দাম:

নয়াদিল্লি: ১০২.১২ রুপি, কলকাতা: ১১৩.৫১ রুপি, মুম্বাই: ১১১.২১ রুপি, চেন্নাই: ১০৭.৭৭ রুপি।

অন্যদিকে ডিজেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে:

বিজ্ঞাপন

নয়াদিল্লি: ৯৫.২০ রুপি, কলকাতা: ৯৯.৮২ রুপি, মুম্বাই: ৯৭.৮৩ রুপি, চেন্নাই: ৯৯.৫৫ রুপি।

এছাড়া রাজধানী দিল্লিতে সিএনজির দামও কেজিপ্রতি এক রুপি বাড়িয়ে ৮১ দশমিক ০৯ রুপি করা হয়েছে।

ভারতে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো নতুন করে চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।

বিজ্ঞাপন

এর আগের দফার মূল্যবৃদ্ধির পরই দেশটিতে দুধ, পাউরুটি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে ছিল।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি—ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনলেও দেশের বাজারে পুরোনো দামেই বিক্রি করছিল। এতে সংস্থাগুলোকে প্রতিদিন হাজার কোটি রুপির বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় সরকার মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন লোকসান বহন করা তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।

বিজ্ঞাপন

ভারতে ২০২২ সালের এপ্রিলের পর দীর্ঘ সময় জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল ছিল। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে লিটারপ্রতি দুই রুপি পর্যন্ত কমানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই ধাপে ধাপে তেলের দাম বাড়ানো শুরু হয়েছে।

জ্বালানি খাত বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সামনে আরও মূল্য সমন্বয় হতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকারকে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD