Logo

মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সামরিক জান্তা প্রধান অং হ্লেইং

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৪২
মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সামরিক জান্তা প্রধান অং হ্লেইং
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন দেশটির সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং। সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদের অধিবেশন শুরু হলে তাকে এই পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়। শুরু থেকেই তার নির্বাচিত হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন

কারণ, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তার সঙ্গে আরও দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তারা দুজনই মিন অং হ্লেইংয়ের ঘনিষ্ঠ এবং অনুগত হিসেবে পরিচিত। ফলে তাদের কারও নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মিন অং হ্লেইংয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা এখনো বহাল রয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশের বিশাল এলাকা সশস্ত্র বিরোধী দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে সামরিক জান্তা শান্তির পথ হিসেবে প্রচার করেছে এবং সাধারণ মানুষকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়।

তবে এই নির্বাচনকে অনেকেই প্রহসন হিসেবে দেখেছেন। সমালোচকদের মতে, চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে অনেক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি কিংবা সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ফলে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বর্তমান সামরিক সরকার দাবি করেছে যে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের অংশগ্রহণও সন্তোষজনক ছিল।

নতুন গঠিত সংসদের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই মিন অং হ্লেইংয়ের প্রতি অনুগত। এদের মধ্যে অনেকে সরাসরি সামরিক বাহিনীর কর্মরত কর্মকর্তা, আবার অনেকে সামরিক বাহিনী-সমর্থিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি। ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

তবে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে যে, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।

মিয়ানমারের নতুন সংসদের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য মিন অং হ্লেইং-এর প্রতি অনুগত। হয় তারা সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত কর্মকর্তা অথবা সামরিক বাহিনীর নিজস্ব দলের নির্বাচিত প্রার্থী।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD