Logo

ভারতের মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ‘নাগরিকত্ব’ বাতিল

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৮:২৩
ভারতের মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ‘নাগরিকত্ব’ বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসে যাদের পূর্বপুরুষদের শাসন বিস্তৃত ছিল বাংলা, বিহার ও ওড়িশাজুড়ে, সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিবারের উত্তরসূরিদেরই এখন নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নামতে হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নবাব মীর জাফরের প্রায় ৩৪৬ জন বংশধরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে এখন তাদের ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর লালবাগ নব আদর্শ হাই স্কুলের ১২১ নম্বর বুথের ভোটার তালিকা দীর্ঘদিন ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রাখা হয়। পরে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলী মীরজাসহ তার পরিবারের ৯ জন সদস্যের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মীরজাও।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈয়দ রেজা আলী মীরজা বলেন, শুনানির সময় তিনি প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম বহাল থাকার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় এসে দেখা যায়, শুধু তার পরিবার নয়, নবাব বংশের আরও বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। লালবাগের ঐতিহাসিক কিল্লা নিজামতের পাশেই বসবাসকারী এই পঞ্চদশ প্রজন্মের উত্তরসূরি আক্ষেপ করে বলেন, একসময় তাদের পূর্বপুরুষরা প্রজাদের বিচার করতেন, আর এখন তাদেরই বিচারের মুখোমুখি হয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নিজেদের দেশপ্রেম ও নাগরিকত্বের সপক্ষে পরিবারটি দাবি করে, দেশভাগের সময় তাদের পূর্বপুরুষ ওয়াসিফ আলী মীরজা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভারতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি স্বাধীনতার পর মুর্শিদাবাদ তিন দিনের জন্য পাকিস্তানের অংশ হয়ে গেলেও তাদের পরিবারের হস্তক্ষেপেই তা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় বলে তারা দাবি করেন। তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেরও ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানান কাউন্সিলর ফাহিম মীরজা।

আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কায় পরিবারটি মনে করছে, এবার হয়তো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসক আর অর্জুন জানান, নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে নাম মুছে ফেলার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো পাননি। তবে অভিযোগ পেলে প্রতিকারের জন্য ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার আইনি পরামর্শ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র/টাইমস অব ইন্ডিয়া

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD