ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে আরও বাড়লো তেলের দাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা এবং যুদ্ধ শেষের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ভাষণের পরপরই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।
আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৪৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ দশমিক ৪০ ডলারে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ট্রাম্পের ভাষণের আগে উভয় সূচকের দাম কমতির দিকে থাকলেও পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা জ্বালানি সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে এসব দেশের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক কসপি ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজার দিনের শুরুতে ইতিবাচক থাকলেও পরে ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। মালয়েশিয়ার সূচকও প্রায় এক শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে সবচেয়ে বেশি দরপতন দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত লক্ষ্য অর্জন করবে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি, যা বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কূটনৈতিক সমাধান হলে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।








