ইরান যুদ্ধ: হরমুজ প্রণালি অবরোধে আটকা ২১৯০ জাহাজ

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়েছে কমপক্ষে ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জের ধরে ইরান এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
সমুদ্র যান সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আরব নিউজ জানিয়েছে, আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি অতি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ এবং ৫০টিরও বেশি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ অন্তর্ভুক্ত।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার ও বুধবার মাত্র ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত। যেসব জাহাজ অনুমতি পেয়ে প্রণালি পার হয়েছে, সেগুলো ইরানের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে দেশটির উপকূলবর্তী লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে যেতে পেরেছে।
বিজ্ঞাপন
জাহাজ চলাচল বিষয়ক তথ্যদাতা লয়েডস লিস্টের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে কমপক্ষে ৪৮টি জাহাজ এই পথটি ব্যবহার করেছে। ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে মূলত সেসবে দেশের জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
যাতায়াতের অনুমতি পাওয়া জাহাজ মালিকদের ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। যদিও ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে মালয়েশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য এই ধরনের চার্জ মওকুফ করা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তেহরানকে হুঁশিয়ার দিয়ে বলেছেন, হরমুজে অবরোধ তোলাসহ ইরান যদি তার সব দাবি না মানে তাহলে ওয়াশিংটন ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করবে।
তবে বলপূর্বক হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য সামরিক অভিযানকে ‘অবাস্তব’ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রাঁ।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘কিছু লোক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বলপূর্বক হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণাকে সমর্থন করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও মাঝে মাঝে এ কথা বলে থাকে। যদিও তাদের অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।’
তিনি বলেন, এটি (হরমুজ প্রণালি খোলা) এমন একটি বিষয় যা আমরা কখনোই সমর্থন করিনি। কারণ এটা অবাস্তব। তিনি আরও বলেন, ‘এটা বলপূর্বক খোলতে গেলে অনেক সময় লাগতে পারে। যারাই এ প্রণালি খুলতে যাবে তারাই ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির এই অবরোধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বিজ্ঞাপন








