বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের প্রতিযোগিতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ৩৫তম দিনে এসে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। আকাশ ও স্থলে বেড়েছে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে আগে খুঁজে পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে দুই দেশ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটিতে সাধারণত দুইজন ক্রু থাকেন— একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালিয়ে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে অপর ক্রু সদস্য এখনো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
নিখোঁজ ক্রুকে ইরানি বাহিনীর হাতে পড়া থেকে রক্ষা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান অঞ্চল এবং কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের আকাশে নিচু দিয়ে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, নিজেদের সেনাকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের মুখে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে কয়েকজন উদ্ধারকারী সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার ব্যাপারে সমানভাবে তৎপর ইরান। তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় আটক করতে পারলে তা মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছে তেহরান।
বিজ্ঞাপন
এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সাধারণ জনগণকেও অনুসন্ধানে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। সরাসরি সম্প্রচারে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে— কেউ যদি ওই ক্রুকে জীবিত ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারেন, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এমনকি এক ব্যবসায়ী আলাদাভাবে অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে এই প্রথম মার্কিন বাহিনীর কোনো মানববাহী যুদ্ধবিমান ইরানের ভূখণ্ডে ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটলো। এর আগে আকাশপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর সেই দাবি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।








