বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এই বক্তব্যের পরপরই বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলে। ফলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলারের বেশি হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের মূল্যও বেড়ে প্রায় ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া লন্ডন গ্যাস অয়েলের ফিউচার্স মূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে, প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা তৈরি করেছে। মার্চের শুরু থেকে এই অস্থিরতা প্রকট আকার ধারণ করে। গত সপ্তাহে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক হুমকি সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান এই সংঘাত অন্তত আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি ধর্মীয় উৎসবের সময়েও সম্ভাব্য হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেয়। এর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।








