পুরো বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রকে পাল্টে দিয়েছে ইরান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। যদিও তেহরান তার শীর্ষ নেতৃত্ব, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদের বড় অংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হারিয়েছে, তবু যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইরান কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই সংঘাতে হাজার হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামান্য কিছু যুদ্ধবিমান হারালেও কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বশক্তির অভ্যন্তরীণ ফাটলও যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের দূরত্ব বেড়ে গেছে, কারণ ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত সমর্থন না দিয়ে পার্শ্বচরিত্রের ভূমিকা নিয়েছে।
ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছে, যা মেরামতের জন্য হয়তো দেশটির শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের অপেক্ষা করতে হবে। রাশিয়া ও চীন সরাসরি অংশ নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব কমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
রুশ ও চীনা প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। ভেনেজুয়েলা এবং পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতের পর দেখা যায়, আমেরিকার আধুনিক সমরাস্ত্রের সামনে এসব সরঞ্জাম কার্যকর সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা চীনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যেখানে ভারত ইতিমধ্যেই নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে ইসরায়েল। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্ত হয়েছে।
আঞ্চলিক সমঝোতাগুলো পুনরায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতও সুকৌশলে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রেখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব দৃঢ় করেছে।
বিজ্ঞাপন
যদিও ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৌশলগতভাবে জয় পেয়েছে। সীমিত সমরাস্ত্র থাকলেও একাই আমেরিকা-ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি মার্কিন প্রশাসনের নৈতিক পরাজয় হিসেবে ধরা যেতে পারে।
সূত্র: এশিয়া টাইমস








