বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় শরীরে এইচআইভি জীবাণু পুশ

ভারতের হায়দরাবাদে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিহিংসার জেরে এক তরুণীর শরীরে জোর করে এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত প্রবেশ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার এক মাসের মাথায় ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদে গত ১১ মার্চ এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবক মনোহর ও ভুক্তভোগী তরুণী পরস্পর আত্মীয় ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে তাদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে মনোহরের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়লে তরুণী বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মনোহর ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের সংক্রমিত রক্ত তার শরীরে প্রবেশ করান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত মনোহরকে গ্রেপ্তার করে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার প্রায় এক মাস পর ১১ এপ্রিল তরুণীকে নিজ বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী ঘটনার পর থেকে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। সামাজিক কলঙ্ক, ভয় ও মানসিক আঘাতের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পঁচারাম আইটি করিডর থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “অযাচিতভাবে এইচআইভি সংক্রমণের শিকার হওয়ার মানসিক অভিঘাতই তাকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে আমরা মনে করছি। তবে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নারী নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ এখন মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক ঘটনা সমাজে ভয়াবহ নজির স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সমাজকর্মী ও নারী অধিকারকর্মীরা।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








