Logo

অনিরাপদ হরমুজ প্রণালি, বিকল্প পথে হাঁটছে উপসাগরীয় দেশগুলো

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৩৮
অনিরাপদ হরমুজ প্রণালি, বিকল্প পথে হাঁটছে উপসাগরীয় দেশগুলো
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ পার হয়নি বলে দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো যুদ্ধজাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোতে উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ এই প্রণালি তাদের তেল রপ্তানির প্রধান পথ।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শনিবার মাত্র তিনটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে—এর মধ্যে দুটি চীনের এবং একটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা অত্যন্ত কম। আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করত।

রোববার আরও দুটি জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো ফিরে যায়। কী কারণে তারা ফিরে গেছে তা নিশ্চিত না হলেও, এতে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রণালিটি এখন অনিরাপদ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প রুটের দিকে ঝুঁকছে। কাতার ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইন পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহন করতে পারে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব। পাশাপাশি সৌদি আরবের মানিফা তেলক্ষেত্র থেকেও অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে, যা থেকে দৈনিক আরও প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটে হরমুজ নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রুট ও অবকাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD