বিবিসিতে বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ২১ হাজারের বেশি কর্মী

ব্যয় সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি ২১ হাজার ৫০০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানটির মোট জনবল-এর প্রায় ১০ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার লন্ডনে বিবিসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অল-স্টাফ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ। এর আগে ২০১১ সালে একবার বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আগামী ১৮ মে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ম্যাথিউ জন ব্রিটিন (ম্যাট ব্রিটিন)। তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা আসে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বাজেট থেকে ৬০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সে সময় তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভি কর্মীসংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
বিভিন্ন ইস্যুতে সংবাদ পরিবেশন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে গত নভেম্বরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন টিম ডেভি। পরে ২ এপ্রিল তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। তার বিদায়ের পর বর্তমানে অন্তর্বর্তী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রদ্রি তালফান ডেভিস। তিনিই বৈঠকে এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন এবং নতুন প্রধান যোগ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের পর কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক ইমেইলে তালফান ডেভিস জানান, বিবিসি বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। প্রোডাকশন খরচ বৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক আয়ে চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা এই সংকটকে তীব্র করেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বর্তমানে বিবিসির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড। আগামী দুই বছরে অন্তত ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করতে হবে, যার বড় অংশই ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রভাব ফেলবে। এ কারণে কর্মীসংখ্যা কমানো ছাড়া বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার, বিনোদন ও থিয়েটার খাতের কর্মীদের সংগঠন বেকটু’র নেতা ফিলিপ্পা চাইল্ডস এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এত বড় পরিসরে ছাঁটাই কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করবে এবং বিবিসির সংবাদ কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








