হরমুজ ইস্যুতে উত্তেজনা, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করা হয়েছে—এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করা হয়েছে— প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ দাবির পরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হবে। একইসঙ্গে সতর্ক করা হয়, কোনো জাহাজ এই প্রণালির কাছাকাছি এলেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এমন ঘোষণার পর থেকেই বাজারে অস্থিরতা বাড়তে শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠে যায়।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সেই অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এবং তাদের পারস্পরিক বার্তা বিনিময়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য, বাজারে ওঠানামার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
রোববারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং এই অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধই থাকবে।
বিজ্ঞাপন
তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে রবিবার (১৯ এপ্রিল) ট্রাম্প জানান, ইরান ইস্যুতে আলোচনার জন্য তার প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আপাতত আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, যা কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।








