হামলায় গুরুতর দগ্ধ মোজতবা খামেনি, লাগতে পারে প্লাস্টিক সার্জারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখ ও ঠোঁট গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা, তার সুস্থতার জন্য প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এতে ইরানি রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারি এবং মোজতবার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় মোজতবার একটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি বাহু গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। মুখ ও ঠোঁট দগ্ধ হওয়ায় তার কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্লাস্টিক সার্জারি অপরিহার্য হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের প্রথম দিনেই বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার স্ত্রী এবং মোজতবার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আগে দাবি করা হয়েছিল, আহত হওয়ার পর মোজতবাকে রাশিয়ার একটি সামরিক বিমানে মস্কো নেওয়া হয়। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে তিনি কোথায় চিকিৎসাধীন, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি। তবে বলা হয়েছে, তাকে নিরাপত্তাজনিত কারণে অত্যন্ত গোপন স্থানে রাখা হয়েছে, যাতে গোয়েন্দা নজরদারি বা সম্ভাব্য হামলা এড়ানো যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার চিকিৎসা তদারকিতে আছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।
গুরুতর শারীরিক অবস্থার কারণে মোজতবা এখন ভিডিওবার্তা দিতে পারছেন না। তিনি কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। এ অবস্থায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা নিচ্ছেন, যদিও মোজতবাকে বিষয়গুলো সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
মোজতবার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা সরকারের শীর্ষে থাকলেও বাস্তবে তিনি পরামর্শ ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এখন সিদ্ধান্তগুলো সমষ্টিগতভাবে নেওয়া হচ্ছে, আর আইআরজিসির জেনারেলরাই কার্যত দেশ পরিচালনা করছেন।”
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, এনডিটিভি








