যুদ্ধবিরতির মাঝেই জনগণকে আশ্বস্ত করল ইরান সরকার

যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আপাতত যুদ্ধবিরতিতে থাকলেও দেশের জনগণের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে ইরান সরকার। চলতি সপ্তাহে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরিনি।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাত নিয়ে তিনি জানান, নেকা অঞ্চলে একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট মাত্র ৯৯ দিনে চালু করা হয়েছে, যা প্রকৌশলগতভাবে বড় সাফল্য। সংকটকালেও বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সচল রাখতে সংশ্লিষ্টদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
যুদ্ধের মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত রাখা শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরতদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেশের সব শ্রমিককে শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ইন্টারনেট ও যোগাযোগ প্রসঙ্গে ফাতেমা বলেন, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবসা ও জরুরি যোগাযোগ বজায় রাখতে সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এটি পুনর্বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে দেশীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হচ্ছে এবং দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষাখাতে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরে মুখপাত্র জানান, অন্তত ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
আবাসন খাতে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে বলা হয়, বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুনর্গঠনে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পরিবহন খাতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার কথা জানানো হলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভাড়া বৃদ্ধি স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদারকি জোরদারের কথাও বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিচ্ছে জানিয়ে ফাতেমা বলেন, মিডিয়াসহ বিভিন্ন খাতে চাকরি সুরক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্য নিজস্ব উৎপাদন থেকে আসে, ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এসএনএন








